বাস্তবিক গল্প true story

https://shorter.me/f0CHX সন্ধ্যার দিকে টিউশন করে বাসায় ফিরছিলাম। মাথায় হাজার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। বাবার ওষুধ কিনতে হবে, বোন কদিন ধরেই বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য বায়না করেছে। টাকার অভাবে বোনের বায়না পূরণ করতে পারিনি। 

কদিন ধরে মা ছেঁড়া শাড়ি পড়ছে। হাতে টাকা না থাকায় শাড়ি ও কিনতে পারছে না। লজ্জার মাথা খেয়ে আজ দুইটা টিউশন থেকে মাসের কয়দিন বাকি থাকতেই টিউশনের টাকা চেয়ে বসি। 


দুই টিউশন থেকেই অর্ধেক করে টাকা দিয়েছে। মাস না যেতেই টাকা চেয়েছি তাই হয়ত অর্ধেক টাকা দিয়েছে। আসলে কেউই চাইবে না মাস শেষ না হতেই টাকা দিতে। তাও তো আমার সৌভাগ্য হয়েছে কিছু টাকা তো হাতে পেলাম? 


দুই টিউশন থেকে মোট ১৫০০ টাকা দিয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে একটা মার্কেটের সামনে এসে দাঁড়াই। মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে হবে তাই বেছে বেছে মায়ের জন্য একটা শাড়ি কিনলাম। মায়ের শাড়ি কিনতে ৮০০ টাকা লেগেছে। বাকি ৭০০ এর মধ্যে ৬০০ টাকা দিয়ে বাবার ওষুধ আর বোনের জন্য তিন প্যাকেট বিরিয়ানি কিনলাম।


আজকাল বিরিয়ানির বাজার খুব চড়াও হয়েছে। চাইলেই বিরিয়ানি কিনতে পারিনা। আমার বোন খুব বিরিয়ানী পাগলি। 


পথের মধ্যেই এক ভিক্ষুক আমার কাছে টাকা খুঁজছিলেন। আমার হাতে আছে মাত্র ১০০ টাকা। কোন খুচরো টাকাও নেই যে তাকে কয়টা টাকা দেব। 


আমার বাসায় ফিরতে হলে রিক্সা নিয়ে যেতে হবে। রিকশায় গেলে ২০ টাকা দিয়ে যেতে হবে। বাকি ৮০ টাকা দিয়ে আমার এক সপ্তাহ চলতে হবে। বুঝ হবার পর থেকে বাবার কাছে হাত পেতে টাকা নিতে খুব লজ্জা লাগে। 


আমি ভিক্ষুককে বললাম,,"চাচা মাফ করেন।" এই কথা বলে রিক্সা খুঁজতে লাগলাম। রিক্সায় উঠে বসতেই ভিক্ষুকটি বলে উঠল,,"ও আফা এত টাকার জিনিস কিনলেন আর আমাকে দুইটা টাকা দিতে পারলেন না? আল্লাহ আপনেগো ভালো করতো না। আইজ ভিক্ষুক বইলাই হাত পাতি আপনেগো কাছে। আপনেগো ভালো হইতনা দেইখা নিয়েন।"


তার কথা শুনে মুচকি হেসে মনে মনে বলছি,," কিছু কিছু সময় পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য স্বার্থপর হতে হয়। পরিবারের জন্য না হয় অন্য সবার কাছে স্বার্থপর হয়েই থাকি।"

(সমাপ্ত)



বাস্তবিক গল্প true story
বাস্তবিক গল্প true story 


Post a Comment

Previous Post Next Post